Header Ads

ভৌতিক কল্পকাহিনী

অচেনা স্টেশন

 

শহর থেকে অনেক দূরে একটা মফস্বল এলাকায় ইন্টারভিউ দিয়ে ফিরছিল সায়মন। ট্রেন পৌঁছাতে রাত এগারোটা বেজে গেল। ছোট স্টেশন, চারদিকে ঘন কুয়াশা আর ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। স্টেশনে সায়মন ছাড়া আর কেউ নেই।
সে স্টেশনের বাইরে এসে দেখল কোনো রিকশা বা যানবাহন নেই। 

স্টেশনের পাশেই একটা পুরনো আমবাগান, তার ভেতর দিয়ে সরু একটা রাস্তা চলে গেছে বড় রাস্তার দিকে। অগত্যা সায়মন সেই পথেই হাঁটা ধরল।

কিছুদূর যাওয়ার পর সে দেখল, কুয়াশার ভেতরে সাদা পোশাক পরা একজন লোক তার সামনের দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। সায়মন ভাবল, লোকটিকে রাস্তার কথা জিজ্ঞেস করা যাক।

"আচ্ছা ভাই, মেইন রোডে যাওয়ার রাস্তা কি এটাই?" সায়মন ডাক দিল।

লোকটি কোনো উত্তর দিল না। স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। সায়মন আবার ডাকল, "শুনছেন?"

এবার লোকটি খুব ধীরে ধীরে সায়মনের দিকে ঘুরল। সায়মন টর্চের আলোটা লোকটির মুখের ওপর ফেলতেই তার রক্ত হিম হয়ে গেল। লোকটির মুখ বলে কিছু নেই! পুরোটা সমতল চামড়া— চোখ নেই, নাক নেই, মুখ নেই। কেবল কপালে একটি গভীর ক্ষত চিহ্ন

সায়মন চিৎকার করতে চাইল, কিন্তু গলা দিয়ে শব্দ বেরোচ্ছে না। সে উল্টো দিকে দৌড়াতে শুরু করল। দৌড়াতে দৌড়াতে সে আবার স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে ফিরে এল। হাঁপাতে হাঁপাতে সে দেখল, ট্রেনের সিগন্যালম্যান তার লণ্ঠন হাতে দাঁড়িয়ে আছে।

সায়মন গিয়ে তাকে জাপটে ধরল, "চাচা! ওদিকে একটা লোক... ওর মুখ নেই! আমাকে বাঁচান!"

সিগন্যালম্যান লোকটি শান্ত গলায় জিজ্ঞেস করল, "মুখ নেই? কেন বাবা, এই রকম মুখ?"

এই বলে সিগন্যালম্যান তার হাতের লণ্ঠনটি নিজের মুখের কাছে তুলল। সায়মন দেখল, এই লোকটিরও কোনো চোখ-নাক-মুখ নেই! কেবল কপালে ঠিক আগের লোকটির মতোই একটি গভীর ক্ষত চিহ্ন।

সিগন্যালম্যানের হাতের লণ্ঠনটি মাটিতে পড়ে নিভে গেল। পুরো স্টেশন অন্ধকারে ডুবে গেল, আর সায়মন শুনতে পেল তার কানের একদম কাছে কেউ ফিসফিস করে বলছে— "এখান থেকে কেউ কোনোদিন ফিরে যেতে পারে না..."


No comments

Theme images by 5ugarless. Powered by Blogger.